মানিকগঞ্জে একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

গেজেট প্রতিবেদন

মানিকগঞ্জের সদর উপজেলায় একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে স্ত্রী ও দেড় বছরের কন্যাশিশুকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন স্বামী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি ঘোনাপাড়া এলাকায় নিহতদের বাড়ি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার জান্নাকান্দি গ্রামের আকরাম হোসেন (৪০), তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৪) এবং তাদের দেড় বছরের মেয়ে আলিজা আক্তার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২ মাস আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন আকরাম। এরপর থেকে তিনি অনেকটা ঘরবন্দি ছিলেন। শুক্রবার রাতে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। শনিবার সকাল থেকে অনেক বেলা হলেও ঘরের দরজা না খোলায় আকরামের মা দরজার ফাঁক দিয়ে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ঘরের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে আকরামকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত এবং তার স্ত্রী ও মেয়েকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে ইট দিয়ে স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার মাথা থেঁতলে ফেলে পরে দেড় বছর বয়সে কন্যা শিশু কান্না করলে তাকেও ইট দিয়ে আঘাত করে এবং শ্বাস রোধ করে হত্যা করে শোক সইতে না পেরে নিজের স্ত্রীর ওড়না দিয়ে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন স্বামী।

প্রত্যক্ষদর্শী আলামিন বলেন, পাশের এলাকায় ডেকোরেশনের কাজ করার সময় চিৎকার শুনে সেখানে যান। পরে ঘরের টিনের বেড়া কাটা অবস্থায় দেখতে পান। ভেতরে আকরামকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে এবং তার স্ত্রী ও শিশুকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মামুন বলেন, আমার ধারণা এটা পারিবারিক কলহ হবে। আমি ১২ টা ৫০ এ ফোন পাই এইখান থেকে যে এইরকম ঘটনা ঘটে। আকরাম আগে অনেক ভালো ছিলো, ভালো মনের মানুষ। প্রায় ৫ বছর বিদেশে ছিলেন। এইবার যে ছুটিতে আসছে ওর চলাচল আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হয় নাই। সে মুলত ঘর থেকে বের হয়না এখন। ওর মানসিক অবস্থা ভালো ছিলো না।

স্থানীয় তোফাজ্জল বলেন, রাতে পাশেই বক্স বাজছিল। সকাল ৯টা-১০টার দিকে তাদের ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ঘরের বেড়া কেটে দেখা যায় একজন ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে আর ২ জন নিচে পড়ে আছে। তাদের আর্থিক কোন সমস্যা ছিলো না তবে পারিবারিক কলহের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে নিহত প্রিয়াঙ্কা আক্তারের পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, এত বড় ঘটনা কেনো তাদের দুপুর ১টার দিকে জানানো হলো। মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন চক্রান্ত করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলছেন তারা।

নিহত প্রিয়াঙ্কার মা বলেন, আমার ম্যায়ার লগে কতা কইলাম কাইলক্যা। কইলাম আয় কইলো আহুমনি, কয়দিন পর আহুম। আমার ম্যায়ারে মাইরাফালাইছে। ভালো ম্যায়া জমাইর সাথে কোনো সমস্যা না বলতে বলতে আহাজারি করতে থাকেন।

প্রিয়াঙ্কার বাবা মোহাম্মদ মহসিন খান বলেন, আমার মেয়েকে ষড়যন্ত্র কইরা এই বাড়ির যারা আছে, পুত্রা ঝিয়ারি (প্রিয়াঙ্কার দেবর, ও ননদ), ঝিয়ারির জামাই (ননদের জামাই) ষড়যন্ত্র কইরা মারছে। আমার জামাই (প্রিয়াঙ্কার জামাতা) এর সাথে কোন অবনতি (অমিল) নাই এইডা আমি জানি। আমি ন্যায় বিচার চাই।

তার দাবি, প্রিয়াঙ্কার সাথে একরামের কোনো সমস্যা ছিল না। একরামের বোনসহ পরিবারের কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

প্রিয়াঙ্কার ভাই ইয়াসিন তার বোন ও ভাগনিকে হত্যার অভিযোগ করে তিনি বলেন, ঘটনাটি আরও আগে ঘটলেও দুপুরের দিকে তারা খবর পান। তার দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।

বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মহরম আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে আকরাম তার স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করেছেন। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস নিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন